সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
পবিত্র ঈদের দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক বিশেষ উপলক্ষ। এ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি হলো ‘ঈদের নামাজ’।
শরিয়তের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যাদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ, তাদের ওপর ঈদের এই নামাজ ওয়াজিব। অর্থাৎ, প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, যেসব মুসলিম পুরুষ জামাতে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের সামর্থ্য রাখে, তাদেরকে ঈদের নামাজ পড়তে হবে। (আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৪৭৬, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৬১৭, শরহুল মুনইয়া : পৃ. ৫৬৫)
এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসে, ‘ঈদেরর ওয়াক্ত কখন শুরু হয়? কখন নামাজ পড়তে হ নামাজেবে?’
এ বিষয়ে সহিহ হাদিস ও ফিকহের গ্রন্থসমূহে বলা হয়েছে, ঈদের নামাজের ওয়াক্ত হচ্ছে সূর্য উদিত হয়ে (নামাজের) নিষিদ্ধ সময় শেষ হওয়ার পর থেকে শুরু করে যাওয়াল তথা সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার আগ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যেই ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে। যাওয়ালের পর আর ঈদের নামাজ সহিহ হবে না। (আবু দাউদ : ১১৩৫, আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া : পৃ. ৬৫, আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৪৭৭, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৬১৯)
ঈদুল আজহার নামাজ ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর দেরি না করে কিছুটা তাড়াতাড়ি আদায় করা মুস্তাহাব। যাতে কোরবানির কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়। আর ঈদুল ফিতরের নামাজও ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর যথাসম্ভব দ্রুত আদায় করে নেবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজযাক : বর্ণনা ৫৬৫১, আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া : পৃ. ৬৭, আলবাহরুর রায়েক : ২/১৬০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৫০)
প্রসঙ্গত, ঈদের নামাজ দুই রাকাত। এই নামাজের নিয়ম হলো, নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু করে ছানা পড়বে। ছানা পড়ার পর ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আরও তিনটি তাকবির বলবে।
প্রথম দুই তাকবির বলার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। তৃতীয় তাকবির বলার সময় কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠিয়ে বেঁধে নেবে। অতঃপর সুরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাবে এবং প্রথম রাকাত শেষ করবে।
দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে সুরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে আগের নিয়মে তিনটি তাকবির বলবে। তবে দ্বিতীয় রাকাতে তৃতীয় তাকবির বলার সময়ও হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। অতঃপর চতুর্থ তাকবির বলে রুকু করবে। এরপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় যথারীতি নামাজ শেষ করবে। (কিতাবুল আছল : ১/৩১৯, আলহাবীল কুদসী : ১/২৪৩)